সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা

  • আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা
সিলেট অঞ্চলে আবারও মৃদু ভূক¤পন অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ছাতক উপজেলা, মাত্রা ৪.১। এর আগে গোয়াইনঘাট উপজেলা কেন্দ্র করে ৪.০ মাত্রার আরেকটি ভূক¤পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিক বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও ঘটনাগুলো আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়- বাংলাদেশ, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল, ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, প্রস্তুতিই এখানে একমাত্র ভরসা। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানগত কারণে সিলেট অঞ্চল ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের নিকটে। তাই মাঝেমধ্যে মৃদু কম্পন নতুন নয়। কিন্তু সমস্যার জায়গা অন্যত্র- আমাদের নগরায়ণ, নির্মাণমান ও প্রস্তুতির ঘাটতি। ৪ থেকে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত মৃদু হিসেবে বিবেচিত হলেও অনিয়ন্ত্রিত ও নি¤œমানের ভবন নির্মাণ থাকলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। প্রথমত, নির্মাণকোড বাস্তবায়ন এখন আর কাগুজে নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকি করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর প্রকৌশল শাখাকে শক্তিশালী করা জরুরি। লাইসেন্সবিহীন নকশা ও নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি মানচিত্র ও জনসচেতনতা। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাজার ও বহুতল ভবনে নিয়মিত মহড়া (ড্রিল) চালু করা প্রয়োজন। ভূক¤পন হলে কীভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে - এসব বিষয়ে নাগরিকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, পর্যবেক্ষণ ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সিসমোগ্রাফ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, তথ্য দ্রুত যাচাই ও জনসম্মুখে প্রকাশ - এসবের মাধ্যমে গুজব ও আতঙ্ক কমানো সম্ভব। সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চতুর্থত, সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া কাঠামো। ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত কমান্ড সিস্টেম গড়ে তোলা দরকার, যাতে বড় কোনো দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়। হাসপাতালগুলোতে জরুরি সাড়া-দানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভূমিক¤প ঠেকানো মানুষের সাধ্যের বাইরে; কিন্তু ক্ষতি কমানো সম্পূর্ণই আমাদের হাতে। প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা - অবহেলার নয়, প্রস্তুতির। আজ যে কম্পন ক্ষতি করেনি, আগামীকাল সেটিই বড় আকারে ফিরে আসবে না - এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপত্তাকে সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। দায়িত্বশীল নগরায়ণ, কঠোর নির্মাণমান, সচেতন নাগরিক - এই তিনের সমন্বয়েই আমরা ঝুঁকি কমাতে পারি। প্রকৃত অর্থে এখনই সময়, কথার চেয়ে কাজে প্রমাণের। ভূকম্পনের এই পুনরাবৃত্তি যেন আমাদের সামষ্টিক উদাসীনতাকে নাড়া দেয় - এটাই প্রত্যাশা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স